সেতু বন্ধন ফাউন্ডেশন — “যে সেতু বাঁধে” — গড়ে তুলেছেন নড়াইলের একদল তরুণ, যাঁরা বিশ্বাস করেন যে একটি অসহায় পরিবার আর তার জন্য বিদ্যমান সহায়তার মধ্যে দূরত্বটা প্রায়ই কেবল একটি সেতুর। সেই সেতু হতে পারে সঠিক তথ্য, একটি ফরম, একটি প্রশিক্ষণ, একটি বৃত্তি, একজন চিকিৎসক কিংবা কেবল দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো একজন মানুষ। এই সেতুগুলো গড়াই আমাদের কাজ।
আমরা একটি অলাভজনক, অরাজনৈতিক ও অসাম্প্রদায়িক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যা বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদফতরে নিবন্ধিত। আমরা ছয়টি ক্ষেত্রে কাজ করি — শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও মানব উন্নয়ন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, জেন্ডার ও নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃষি ও স্বাস্থ্য — কারণ একটি দরিদ্র পরিবারের সমস্যা কখনোই একটি একটি করে আসে না।
যা আমাদের পথ দেখায়
- সবার আগে মর্যাদা। সহায়তা দেওয়া হয় অধিকার হিসেবে, দয়া হিসেবে নয় — এবং কখনোই গ্রহীতাকে ছোট করে নয়।
- স্থানীয় মালিকানা। পরিকল্পনা হয় সমাজের সঙ্গে মিলে, আর নির্বাচন করে স্থানীয় কমিটি।
- স্বচ্ছতা। প্রতিটি অনুদানের রসিদ দেওয়া হয়, প্রতিটি হিসাব নিরীক্ষাযোগ্য এবং প্রতিবেদন এই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
- বৈষম্যহীনতা। ধর্ম, রাজনীতি, লিঙ্গ, জাতিগত পরিচয় বা প্রতিবন্ধিতা কখনোই ঠিক করে না আমরা কাকে সেবা দেব।
- শেষ পর্যন্ত অনুসরণ। আমরা মাপি ছয় মাস পরে কী বদলাল, সেদিন কতটি জিনিস বিতরণ হলো তা নয়।
আমাদের কাঠামো
ফাউন্ডেশন পরিচালিত হয় সাধারণ সদস্যদের নির্বাচিত একটি নির্বাহী কমিটির মাধ্যমে। দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করে একটি ছোট ব্যবস্থাপনা দল, যাদের সহায়তা করেন প্রতিটি ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবকরা। প্রতিটি কর্মসূচির হিসাব আলাদাভাবে সংরক্ষিত হয় এবং প্রতি বছর বহিঃনিরীক্ষক দ্বারা নিরীক্ষিত হয়।
অংশীদারিত্ব
আমরা কাজ করি স্থানীয় সরকার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থা এবং দেশ-বিদেশের শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে। সরকারি সেবা যেখানে আছে সেখানে আমরা তা পুনরাবৃত্তি করি না — মানুষকে সেই সেবা পর্যন্ত পৌঁছাতে সাহায্য করি।