বৃক্ষরোপণ, নিরাপদ পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও জলবায়ু সচেতনতা — নদী-নির্ভর জনগোষ্ঠীর জন্য।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ তৈরিতে বাংলাদেশের ভূমিকা খুবই কম, অথচ মূল্য দিতে হচ্ছে অনেক বেশি। নড়াইলে সেই মূল্য চুকাতে হয় ভাঙা নদীতীর, জলাবদ্ধ ফসলের মাঠ, অনিশ্চিত বৃষ্টি আর দূষিত হয়ে পড়া খাবার পানির উৎস দিয়ে। আমাদের পরিবেশ কর্মসূচি সেই কাজগুলোই করে, যা একটি সমাজ নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
আমরা যা করি
- বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি — বিদ্যালয়, রাস্তার পাশে, বাঁধ ও বাড়ির আঙিনায়; এক বছর পর টিকে থাকার হিসাবসহ। আমরা রোপণ করা গাছ নয়, বেঁচে থাকা গাছ গুনি।
- নিরাপদ খাবার পানি — নলকূপ স্থাপন ও মেরামত, পানির মান পরীক্ষা এবং পারিবারিক ফিল্টার।
- স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি — স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা এবং বিদ্যালয়ে মাসিক স্বাস্থ্য সহায়তা।
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্লাস্টিক হ্রাস — বাজার, বিদ্যালয় ও কমিউনিটি স্থানে প্রচারাভিযান।
- দুর্যোগ প্রস্তুতি — আগাম সতর্কবার্তা স্বেচ্ছাসেবক, প্রাথমিক চিকিৎসা দল, নিরাপদ আশ্রয় চিহ্নিতকরণ ও দুর্যোগ-পরবর্তী সাড়াদান।
- জলবায়ু-সহনশীল চর্চা — বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, বসতবাড়ির সবজি বাগান, জৈব সার ও বন্যাসহিষ্ণু ফসলের জাত।
আমরা যেভাবে কাজ করি
প্রতিটি কার্যক্রম শুরু হয় কমিউনিটি ঝুঁকি মানচিত্রায়ন দিয়ে, যেখানে গ্রামবাসীরা নিজেরাই চিহ্নিত করেন কোন জায়গা আগে ডোবে, কোন পরিবার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে এবং নিরাপদ আশ্রয়ের পথ কোনটি। এরপর তৈরি পরিকল্পনাটি তাঁদেরই।
তরুণদের সঙ্গে
বিদ্যালয়ের পরিবেশ ক্লাব এই কর্মসূচির কেন্দ্রে। শিক্ষার্থীরাই নার্সারি চালায়, গাছের পরিচর্যা তদারক করে ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের নেতৃত্ব দেয় — এবং অভ্যাসটি বাড়িতে নিয়ে যায়।
আমাদের লক্ষ্য
আমাদের কর্ম এলাকাকে আরও সবুজ, পরিচ্ছন্ন এবং বন্যা, ঝড়, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা মোকাবিলায় আরও প্রস্তুত করে তোলা।