বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, স্বকর্মসংস্থান সহায়তা, সঞ্চয় দল ও জরুরি ত্রাণ — যা পরিবারকে টিকে থাকা থেকে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যায়।
গ্রামীণ বাংলাদেশে দারিদ্র্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্থায়ী নয় — এটি ভঙ্গুর। একটি দুর্ঘটনা, একটি খারাপ ফসল কিংবা একটি বন্যা কয়েক বছরের পরিশ্রম মুছে দিতে পারে। আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি এই ভঙ্গুরতাকে মাথায় রেখেই সাজানো: দক্ষতা, ছোট সম্পদ ও সঞ্চয় গড়ে তোলা, যাতে আঘাত এলে পরিবারের পায়ের নিচে কিছু মাটি থাকে।
আমরা যা করি
- বৃত্তিমূলক ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ — সেলাই, ব্লক-বাটিক, মোবাইল সার্ভিসিং, ইলেকট্রিক কাজ, কম্পিউটার পরিচালনা, ড্রাইভিং ও বিউটি কেয়ার।
- স্বকর্মসংস্থানে প্রাথমিক সহায়তা — সেলাই মেশিন, যন্ত্রপাতি, দোকানের প্রাথমিক মালামাল, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু।
- সঞ্চয় ও স্বনির্ভর দল, যারা মাসে একবার বসে, স্বচ্ছ হিসাব রাখে এবং উৎপাদনশীল কাজে নিজেদের সদস্যদের ঋণ দেয়।
- চাকরি ও শিক্ষানবিশির সংযোগ স্থানীয় ব্যবসা ও কারখানার সঙ্গে।
- শীতবস্ত্র ও জরুরি ত্রাণ — বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনের পর কম্বল, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয় সামগ্রী।
- বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা, সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে নিবন্ধনে সহযোগিতাসহ।
আমরা যেভাবে কাজ করি
প্রশিক্ষণ হয় সংক্ষিপ্ত ও হাতে-কলমে, এবং তার সঙ্গে সবসময় থাকে প্রাথমিক উপকরণ — কারণ যন্ত্র ছাড়া কেবল সনদ কিছুই বদলায় না। প্রতিটি প্রশিক্ষণার্থীকে অন্তত ছয় মাস অনুসরণ করা হয়, দক্ষতাটি সত্যিই আয়ে রূপ নিল কি না তা দেখতে।
সরকারের সঙ্গে কাজ
বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিডি ও ভিজিএফ কার্ড — যেসব সুবিধা পরিবারগুলোর প্রাপ্য, প্রক্রিয়া বুঝিয়ে ও কাগজপত্রে সহায়তা করে আমরা সেগুলো পেতে সাহায্য করি।
আমাদের লক্ষ্য
দরিদ্র ও অতিদরিদ্র পরিবারগুলোকে দ্বিতীয় আয়ের উৎস ও সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করা, যাতে একটিমাত্র অসুস্থতা বা বন্যা তাদের আবার নিঃস্ব করে দিতে না পারে।