<br>
বিজয় দে
প্রধান নির্বাহী পরিচালক
সেতুর মতো বন্ধন, পরিবর্তনের দীপ্ত অঙ্গীকার
আমাদের সমাজে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে নানা সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও সঠিক দিকনির্দেশনা, সচেতনতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ভাবনার অভাবে অতীতে বহু প্রচেষ্টা কাঙ্ক্ষিত সফলতা পায়নি। একটি টেকসই সমাজ পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন দূরদর্শী লক্ষ্য, সঠিক সচেতনতা এবং স্থানীয় মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ—এই বিশ্বাস থেকেই আমাদের পথচলার সূচনা।
১৫ জানুয়ারি, ২০১০—নড়াইল জেলার ৮ নং কলোড়া ইউনিয়নের আগদিয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার একঝাঁক প্রতিশ্রুতিশীল ও সমাজসেবী তরুণ স্থানীয় নানা সমস্যা ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হন। স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে সমাজ পরিবর্তনের এই মানবিক আন্দোলনের পথিকৃৎ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন বিজয় দে। তাঁরই দূরদর্শী নেতৃত্ব ও একদল উদ্যমী তরুণের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় জন্ম নেয় "সেতু বন্ধন ফাউন্ডেশন"।
সংগঠনটির নামকরণ করেন আগদিয়া গ্রামের বিজয় দে ও চম্পা রানি এবং পার্শ্ববর্তী আগদিয়া চর গ্রামের অধিবাসী ও অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা পরিতোষ বৈরাগী। 'সেতু বন্ধন' কথাটির মূল অর্থ—"অধিকার ও সক্ষমতা অর্জনের এক মজবুত সেতুবন্ধন"। প্রতিষ্ঠার শুভলগ্ন থেকেই বিজয় দে সাধারণ ও কার্যনির্বাহী কমিটির মূল কাণ্ডারি হিসেবে সংগঠনের নীতি নির্ধারণ, কৌশল গ্রহণ এবং দলিল প্রণয়নসহ সার্বিক পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন।
আমাদের শুরুর পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। মাত্র ৪-৫ জন মানুষের বসার মতো ছোট্ট একটি টিনের ঘরে গুটিকয়েক টেবিল-চেয়ার নিয়ে শুরু হয়েছিল দাপ্তরিক কার্যক্রম। তবে বস্তুগত সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও উদ্যোক্তাদের হৃদয়ে ছিল অদম্য ইচ্ছা শক্তি ও ত্যাগের মনোভাব। সেই ছোট্ট ঘর থেকে সূচিত স্বপ্ন আজ এক বিশাল সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে, যা প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সমাজ উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।