নড়াইল ও আশপাশের নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশু-কিশোরদের জন্য বৃত্তি, পাঠ-সহায়তা, শিক্ষা উপকরণ এবং ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ।
শিক্ষা হলো সেতু বন্ধন ফাউন্ডেশনের গড়া প্রথম সেতু। আমরা যেসব গ্রামে কাজ করি সেখানে শিশুরা পড়তে চায় না বলে ঝরে পড়ে না — ঝরে পড়ে বই, ইউনিফর্ম, পরীক্ষার ফি কিংবা প্রাইভেট পড়ার খরচ জোগাড় করতে না পেরে। আমাদের শিক্ষা কর্মসূচি একজন শিক্ষার্থীর পথ থেকে এই ছোট অথচ নির্ণায়ক বাধাগুলো সরিয়ে দেয়।
আমরা যা করি
- মেধা ও প্রয়োজনভিত্তিক বৃত্তি — ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত, ফলাফল ও উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রতি বছর নবায়নযোগ্য।
- শিক্ষা উপকরণ সহায়তা — বই, খাতা, স্কুলব্যাগ, ইউনিফর্ম, জ্যামিতি বক্স ও পরীক্ষার ফি।
- বিদ্যালয়-পরবর্তী শিখন কেন্দ্র, যেখানে স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকরা বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিনামূল্যে পড়ান।
- ডিজিটাল শিক্ষা সেশন — কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও নিরাপদ অনলাইন শিক্ষার সঙ্গে পরিচয়।
- পাঠকক্ষ ও ছোট গ্রন্থাগার স্থাপন — অংশীদার বিদ্যালয় ও কমিউনিটি সেন্টারে।
- ক্যারিয়ার ও ভর্তি নির্দেশনা — উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ফরম পূরণে সহায়তাসহ।
আমরা যেভাবে কাজ করি
প্রত্যেক আবেদনকারীকে শিক্ষক, অভিভাবক ও ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে গঠিত স্থানীয় কমিটি যাচাই করে, যাতে সহায়তা সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পরিবারের কাছে পৌঁছায়। বছরে দুইবার বিদ্যালয়ের সঙ্গে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং প্রত্যেক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর জন্য একজন মেন্টর নিযুক্ত থাকেন।
এই কর্মসূচি কাদের জন্য
দিনমজুর, কৃষক, জেলে, গৃহকর্মী ও একক মায়ের সন্তান; এতিম ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী; এবং দারিদ্র্য, পরিবারের অসুস্থতা বা আকস্মিক দুর্যোগের কারণে যাদের পড়াশোনা ঝুঁকিতে পড়েছে এমন যেকোনো মেধাবী শিক্ষার্থী।
আমাদের লক্ষ্য
আমাদের কর্ম এলাকার প্রতিটি শিশু যেন অন্তত মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারে এবং দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।